দেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, এ ধরনের দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে গড়ে প্রায় ১৭ হাজার শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়।
প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু ও কিশোর পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এ ধরনের মৃত্যুর পেছনে সাঁতার না জানা, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং গ্রামীণ পরিবেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নদী, খাল, বিল ও পুকুরের মতো জলাশয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে শিশুদের জন্য বিপদ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে ঘরের ভেতরে বা আশপাশে শিশু খেলতে গিয়ে, যখন অভিভাবকরা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এই অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশই প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানো গেলে অনেক মৃত্যুই প্রতিরোধ করা সম্ভব। অল্প সময়ের মৌলিক সাঁতার শিক্ষা শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাজার হাজার শিশুকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও হাজার হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। স্কুল পর্যায়ে সাঁতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ পানির পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানো হলে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টি অবহেলা করলে ভবিষ্যতে এই মৃত্যুহার আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

