রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বাণিজ্যের বিস্তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি দাবি করেন, গত দুই দশকে শুধুমাত্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকেই এ দুই জেলায় প্রায় এক হাজার ব্যক্তি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে তিনি আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শনিবার দুপুরে রাজশাহীর নানকিং দরবার হলে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক ওই আয়োজনটি করে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী তার বক্তব্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতের সময়কালে অর্জিত অনেক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মাদক সিন্ডিকেট সমাজে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনীতির বিস্তার ঘটিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ফয়েজুল কবির। বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা মনে করেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে জরুরি। তাদের মতে, পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। সীমান্ত এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক প্রবাহ বন্ধে সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।

