ঢাকায় আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন ও রেফার করা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে যেসব রোগী অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে বা ইতোমধ্যে রেফার করা হয়েছে, তাদের দ্রুত ভর্তি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব যাতে না ঘটে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীরা। বিশেষ করে জটিল রোগ, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা কিংবা নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। এ কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনাকে রোগীবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা এবং তাদের নিরাপদে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। কোনো রোগী যেন প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত কারণে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি রোগীদের আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্দেশনাটি মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। ফলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলো এখন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

