শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বর ঘটনার একমাত্র মাস্টারমাইন্ড নন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “একসময় ধারণা করা হতো তিনি পুরো দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার অবস্থান ও প্রভাব এমন ছিল যে অনেক জায়গায় তার অবস্থান অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে বিবেচিত হতো।”
অভিযোগের বিস্তৃতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, “তার কর্মজীবনে এমন কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ নেই বলে মনে হয় না, যেগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই। শেষ সময়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই তার নানা কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেতে শুরু করে বলে আমরা ধারণা করছি।”
চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে র্যাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের গুমের অভিযোগ, শাপলা চত্বরের ঘটনা, কক্সবাজারের এক কাউন্সিলর হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ কমিশনার, র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও বিতর্কিত নির্বাচনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “যদি তাকে দেশে আনা সম্ভব হয়, তবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। চলমান মামলায় তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তদন্তাধীন মামলাগুলোতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

