ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব আবিদ রেছানীর চাকরি স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে বাতিল করা হয়েছে। ভাড়া বাসার ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে মাত্র সাত মাসের মাথায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জানা যায়, আবিদের নিয়োগ হয়েছিল গত বছরের ৬ অক্টোবর এবং তিনি ১৩ দিন পর কর্মস্থলে যোগ দেন। তবে নিয়োগের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়, যেখানে তার স্থায়ী ঠিকানার তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর পরই বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মানবসম্পদ বিভাগে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় গত ৮ জুন।
ভুক্তভোগী আবিদের পারিবারিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, তিনি শৈশব থেকেই মায়ের সঙ্গে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে বড় হয়েছেন। তার মা একাই তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। সেই ভাড়া বাসার ঠিকানাই তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব সনদে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
চাকরি হারানোর ঘটনায় এলাকায় ও অনলাইন পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন চাকরিতে যোগদানের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে চাকরি বাতিল করা কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়োগের আগেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। চাকরিতে যোগদানের পর এ ধরনের যাচাই করে নিয়োগ বাতিল করা নীতিগতভাবে বিতর্কিত হতে পারে। তাদের মতে, স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনযোগ্য এবং একক কারণে চাকরিচ্যুতির বিধান সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়।
তারা আরও বলেন, যদি কোনো তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি থাকে, তবে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, সরাসরি চাকরি বাতিল নয়। এ ঘটনায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নিয়োগ বিধি এবং নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

