চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা এবং মরদেহ খণ্ডিত করার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বুধবার (১৭ জুন)। চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর মো. ওমর ফারুক।
মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।
তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। তবে পরিকল্পনা সফল না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধের আলামত গোপন করতে মরদেহ খণ্ডিত করে পতেঙ্গা এলাকার সাগরপাড় ও খালের আশপাশে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার ১০ দিন পর, ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে প্রধান আসামি মো. আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করা হয়। আইনগত কারণে ওই কিশোরের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে প্রধান আসামি আবির কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোজ কুমার দে বলেন, শুরুতে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সূত্রহীন। নিখোঁজ হওয়ার আগে শিশুটির সঙ্গে সর্বশেষ যাকে দেখা গিয়েছিল, তদন্তে তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আয়াতের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত কিশোরটি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছিল এবং ঘটনার পুরো বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকলেও পরে তা গোপন রেখেছিল।

