সরকারি অফিসে দেরিতে আসা ও জনসেবায় গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি ছাড়ার মানসিকতা নিয়েই ভাবতে হবে।
বুধবার ঝিনাইদহে আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা যদি সকাল ৯টায় অফিসে এসে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে এবং জনগণের হয়রানি কমবে। কিন্তু সময়মতো অফিসে না এলে ধরে নেওয়া হবে যে তাদের অফিস ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ‘আপনাকে আমার আসসালামু আলাইকুম দিতে হবে’—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি চাকরি থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত দেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণকে সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার রয়েছে, ফলে জনসেবার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের জায়গায় নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
দুর্নীতির বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সরকারি বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের দিন শেষ। কেউ যদি স্বল্প আয়ের চাকরি করেও কোটি টাকার বাড়ি ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হন, তাহলে তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।
আইনমন্ত্রী রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ দমনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক তদবিরও বরদাশত করা হবে না।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের বাজেট কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

