রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং শুল্ক (কাস্টমস) খাতে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। অর্থ, পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি এবং কর জালিয়াতি কমিয়ে রাজস্ব আদায়ের ভিত্তি মজবুত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এক বাজেট-পরবর্তী সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ড. তিতুমীর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার তিন ধাপের একটি কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পুনর্গঠন। এই পরিকল্পনার আওতায় ভোগব্যয় বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, নবগঠিত তিনটি টাস্কফোর্সের জন্য মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্য উপস্থাপনায় যে অসঙ্গতি ছিল তা দূর করে তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কেবল রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ালেই অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিচালন ব্যয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন ও মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণও বাড়াতে হবে। বর্তমানে পরিচালন ব্যয় দ্রুত বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয় সেই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশে এমন বহু প্রকল্প রয়েছে যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এবং একাধিকবার সংশোধনের মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে অনুমোদন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং মূল্যায়ন—সমগ্র ব্যবস্থায় সংস্কার আনার কাজ চলছে।
ড. তিতুমীর আরও জানান, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ড্যাশবোর্ডভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্যনীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
সংলাপে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা সহজীকরণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ মাঠপর্যায়ে করদাতাদের হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

