কুমিল্লায় এক শিবির নেতাকে ঘিরে চলমান মামলায় তার পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে থাকা দুই আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
বাতিল হওয়া দুই এপিপি হলেন কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। তারা দুজনই কুমিল্লার একটি মামলায় আলোচিত শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন বলে জানা যায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, পূর্বের নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনিক নির্দেশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি মন্ত্রণালয়ের আদেশ পাওয়ার পর নিশ্চিত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যদি আসামিপক্ষের হয়ে অবস্থান নেন বা বক্তব্য দেন, তাহলে সেটি দায়িত্বের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আইন মন্ত্রণালয় যেকোনো সময় নিয়োগ বাতিলের ক্ষমতা রাখে। তিনি আরও বলেন, আলোচিত দুই আইনজীবী সরাসরি আদালতে আসামিপক্ষে ওকালতনামা দাখিল করেননি, তবে গণমাধ্যমে তারা আসামিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া মামলায় আসামির পক্ষে তার পরিবারের একজন সদস্যও আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ জুন। সেদিন শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে পরিবার দাবি করে। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং রাতে তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর ১৩ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ২৫ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে গর্ভধারণের পর গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। ১৬ জুন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার মধ্যেই মামলাটিকে ঘিরে আইনজীবীদের অবস্থান ও মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এপিপি পদে থাকা দুই আইনজীবীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে বিষয়টি পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছে।

