বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাত্র সাত মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছিল, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের সদস্যরা আবার গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট পরবেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর সব সদস্যের জন্য খাকি রঙের প্যান্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংশোধিত ‘পুলিশ ড্রেস রুল ২০২৫’ অনুযায়ী এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর পোশাকে আবারও একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা গাঢ় নীল রঙের শার্ট পরবেন। অন্যদিকে মহানগর পুলিশ ইউনিটগুলোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে হালকা জলপাই রঙের শার্ট। তবে ইউনিটভেদে শার্টের রঙ আলাদা হলেও প্যান্টের ক্ষেত্রে একক নীতি অনুসরণ করা হবে। দেশের সব পুলিশ সদস্যের প্যান্ট হবে খাকি রঙের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিফর্ম শুধু একটি পোশাক নয়; এটি একটি বাহিনীর পরিচয়, ঐতিহ্য এবং জনমনে তার ভাবমূর্তিরও প্রতীক। তাই ইউনিফর্মের রঙ বা নকশা পরিবর্তনের বিষয়টি সবসময়ই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। পুলিশের পোশাকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বাহিনীটিকে যেভাবে চিহ্নিত করে, সেটিও এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৪ সালের পর এই প্রথমবারের মতো আবার সব সদস্যের জন্য খাকি প্যান্ট ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। খাকি রঙ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ফলে নতুন সিদ্ধান্তকে অনেকেই পুলিশের ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ের দিকে ফিরে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তবে এই পরিবর্তন সব ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বর্তমান পোশাকে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এসব বিশেষায়িত ইউনিট তাদের বিদ্যমান ইউনিফর্মই ব্যবহার করবে।
পুলিশের পোশাক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বাহিনীর কার্যকারিতা, পেশাদারিত্ব, আন্তর্জাতিক মান এবং জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে আবার পোশাক নীতিতে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিকভাবেই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের আস্থা অর্জন, পেশাদার আচরণ এবং সেবার মান উন্নয়ন। কারণ পোশাক বাহিনীর বাহ্যিক পরিচয় বদলাতে পারে, কিন্তু জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ড, জবাবদিহিতা এবং আইন প্রয়োগের মানের ওপর।
নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন ইউনিটে ধাপে ধাপে নতুন পোশাক সরবরাহ ও ব্যবহার শুরু হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা আবারও নতুন রূপে জনসম্মুখে উপস্থিত হবেন, যা বাহিনীর পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামোর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

