জাতিসংঘে আবারও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।
জাতিসংঘে মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূতের এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়, আর সেটিই সংকটের বাস্তব ও টেকসই সমাধান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এখন দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তাগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
ঢাকার এই কূটনীতিক বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারেই, তাই এর সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করা হলে তা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে যারা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বারবারই বলে আসছে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনই একমাত্র টেকসই সমাধান। তাই এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি বলে মনে করছে ঢাকা।

