বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের লক্ষ্যে দিনটি উদযাপন করা হয়। এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে ২১ জুন।
সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ এবং নীরব সংগ্রামকে স্মরণ করার বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিশ্বব্যাপী দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন ও মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বে সূচনা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়। সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন পরিবার নিজেদের মতো করে বাবাদের সম্মান জানাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, আবার কেউ উপহার বা বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
বাবা দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক কন্যার আবেগ ও সংগ্রামের গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী প্রথম বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। মা দিবসের প্রচলন থাকলেও বাবাদের জন্য আলাদা কোনো দিবস না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।
শৈশবে মাকে হারানোর পর ডড ও তার ভাইবোনদের একাই বড় করে তুলেছিলেন তাদের বাবা। কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যেও সন্তানের লালন-পালনে তার বাবার অসামান্য ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ ডডকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই অনুভূতি থেকেই তিনি বাবাদের সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিনের স্বীকৃতির দাবি তোলেন।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয় পর্যায়ে তার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্যতা পায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবারের আর্থিক ও মানসিক ভিত্তি গড়ে তুলতে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাবারা অনেক সময় নীরবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবা দিবস সেই অবদানকে স্মরণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আজকের দিনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। যারা বাবা হারিয়েছেন, তারাও স্মৃতিচারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। ভালোবাসা, ত্যাগ এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে এবারের বাবা দিবস।

