দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যুর ফলে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন শনাক্ত ১৩৯ জন রোগী যুক্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩৯ জন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ১২ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তবে তার বয়স বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১২৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৪ হাজার ৬৯২ জন ডেঙ্গুরোগী।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগার মেশিন বা কীটনাশক প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, টায়ার ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার অতিক্রম করায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিতে পারে।

