মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আসামিপক্ষ বিভিন্ন আবেদন ও আইনি কৌশলের মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে।
সোমবার রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি শুনানির তারিখেই সময় চেয়ে কিংবা নতুন আবেদন জমা দিয়ে বিচারকাজ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী দলের অন্যতম সদস্য জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার। তিনি বিভিন্ন সময় আইনজীবীর অসুস্থতা, মৃত্যু অথবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সময় চেয়ে আবেদন করছেন। এর ফলে মামলার স্বাভাবিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, রোববার মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সোমবার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে শুনানির আগে আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিক আবেদন জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আসামির সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাতের আবেদনকে বৈধ অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলেও অন্য আবেদনগুলোর বেশিরভাগকেই প্রসিকিউশন অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করে বিরোধিতা করেছে।
আমিনুল ইসলামের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার প্রতিটি ধাপে নতুন নতুন আবেদন এনে সময়ক্ষেপণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আদালতে এসে বারবার সময় চাওয়ার সংস্কৃতি কোনো ইতিবাচক বার্তা দেয় না এবং এতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, আগামী শুনানিগুলোতে যদি অসৎ উদ্দেশ্যে বা বিচার বিলম্বের লক্ষ্য নিয়ে কোনো আবেদন করা হয়, তাহলে প্রসিকিউশন আরও কঠোর অবস্থান নেবে। মামলার কার্যক্রম অযথা দীর্ঘায়িত না করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আলোচিত এই মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে।
তবে আসামিপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। ফলে বিচার বিলম্বের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান আদালতেই আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো ফৌজদারি মামলায় আসামিপক্ষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিচারপ্রক্রিয়া অযথা দীর্ঘায়িত না হওয়াও ন্যায়বিচারের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই আদালতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকাজের গতি বজায় রাখা।

