ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে জাতীয় বিনিয়োগ সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে স্থানীয় পর্যায়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সমন্বিত হবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ফি পরিশোধ, নবায়ন, অনুমোদন গ্রহণ এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার কাজ নিজেই করতে পারবেন। ফলে স্থানীয় কার্যালয়ে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে এবং সেবা পেতে সময়ও কম লাগবে।
সম্প্রতি সংসদে এ বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির পরিধি বাড়ানো, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হালনাগাদ করা এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভূমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন আগেই প্রস্তুত থাকবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন শুরু করতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ–সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন, যাচাই ও পরামর্শ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করা হবে। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও আরও স্বচ্ছ করা হবে।
বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়াও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এতে অপ্রয়োজনীয় দেরি কমবে এবং নিরাপত্তা যাচাই আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ‘এক-জায়গায় সেবা’ ব্যবস্থার আওতা বাড়াতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যাংক—রূপালী ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। পাশাপাশি সাতটি সিটি কর্পোরেশনও যুক্ত হয়েছে—রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
এই সমঝোতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সিটি কর্পোরেশনগুলো তাদের সেবা ব্যবস্থা বিডার ‘এক-জায়গায় সেবা’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। এতে উদ্যোক্তারা ব্যাংক হিসাব খোলা, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন আর্থিক ও সিটি কর্পোরেশন–সম্পর্কিত সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে নিতে পারবেন।
সর্বশেষ সংযোজনের পর এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৫২টিতে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

