আদালত ও আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে এবার দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন আদালত। বরিশালে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মারধর ও চাঁদাবাজির মামলা করার অপরাধে মামলার বাদীকেই কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছেন বিচারক।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বরিশাল মহানগরীর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম শামসুল হক সরদার। তিনি পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি জেলা এলাকার প্রতাপপুর গ্রামের আক্কেল আলী সরদারের ছেলে।
রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কঠোর পুলিশি পাহারায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাজীব মজুমদার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল শামসুল হক সরদারের। সেই বিরোধের জেরে তিনি গত ২২ জানুয়ারি প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে আদালত মামলাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেয়। সংস্থাটি দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতেই সম্পূর্ণ কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মামলা করা হয়েছিল।
আজ শুনানিকালে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন, মামলার নথি এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। সব দিক বিবেচনায় আদালত নিশ্চিত হন, চাঁদাবাজির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধি ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় শামসুল হক সরদারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।
আইনজীবীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মিথ্যা মামলা বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে হয়রানিমূলক মামলা করার প্রবণতা কমবে বলে তারা মনে করেন।

