বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে মেট্রো রেলে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, সমাজের এই জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মেট্রো রেলে বিশেষ ভাড়া সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘সিএসএফ সেন্টার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেট প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার, সেবা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন এবং চলাচলের সুযোগ আরও সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজ এলাকায় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সহায়ক সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। এতে পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক চাপও অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানে যাতায়াত সহজ করতে মেট্রো রেলে ভাড়ার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা চালু হলে তাদের চলাচলের ব্যয় কমবে এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে।
এর আগে প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মেট্রো রেল ও ট্রেনের ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত ২৫ জুন থেকে সেই সুবিধা কার্যকর হয়েছে। নতুন ঘোষণার মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আরও বেশি ভাড়া ছাড়ের বিষয়টি সামনে এলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহনে ভাড়া ছাড় শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, এটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভাড়া ছাড়, সহজ প্রবেশাধিকার, হুইলচেয়ার সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড় কবে থেকে কার্যকর হবে, কীভাবে এই সুবিধা পাওয়া যাবে এবং কোন ধরনের পরিচয়পত্র বা নিবন্ধনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে সরকার এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

