দেশে হামের প্রকোপ কমার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ শিশু, যার মধ্যে পরীক্ষায় ৪৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি দেশের শিশুস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং বাকি দুজন ঢাকা ও খুলনা বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৩ শিশুর। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ২৬৬ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। অন্যদিকে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ উপসর্গ ও নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে মোট আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৬০ জনে।
তবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ শিশু চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। তবুও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২ হাজার ৪৪২ শিশু। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ১৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। ফলে এখনো কয়েক হাজার শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৯৩ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব শিশুর পরীক্ষাগারভিত্তিক শনাক্তকরণ সম্ভব হয় না। তাই উপসর্গভিত্তিক রোগী এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর পরিসংখ্যানে পার্থক্য দেখা যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, আক্রান্ত শিশুকে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে নিবিড় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

