উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির কারণে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নভূমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সকাল থেকেই উজানের ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার আশপাশের চরাঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করে। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত ৮ থেকে ১০টি চর ও নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতেও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, উজানের ঢলের কারণে পানির উচ্চতা বেড়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি তিস্তার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে উজানে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী কয়েক দিনে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

