বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ এবং খাদ্য ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষিপণ্য সরবরাহ, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আজ সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।
বৈঠকে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে পাকিস্তান আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উন্নতমানের পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশের ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিবি) এবং পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশনের (টিসিপি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এ চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল। তবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
বৈঠকের শেষে দুই দেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।

