উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘যেকোনো মূল্যে’ তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মানুষের পানির সংকট নিরসনে সরকার বদ্ধপরিকর। তিস্তা ও পদ্মা—দুই নদীকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, গত তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
কৃষকদের সহায়তায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ চলছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা সরাসরি দেওয়া হবে এবং আরও ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা মিলবে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্র, সংগীত, থিয়েটার, ওটিটি, গেমিং, ফ্যাশন, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল কনটেন্টসহ বিভিন্ন খাতকে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’-এর আওতায় এনে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
খেলাধুলার উন্নয়নে প্রথমবারের মতো জাতীয় সম্মানী কাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে নতুন ক্রীড়া কর্মসূচিও চালু করা হবে।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষ, নৈতিক ও কর্মমুখী মানবসম্পদ গড়ে তুলেই স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চায় সরকার।

