প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী মো. সালামকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি রায় কার্যকর করতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
গত রোববার (২৮ জুন) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. রাজীব মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. সালাম বরিশাল কোতোয়ালি থানার চর বুখাইনগর গ্রামের মৃত মানিক খানের ছেলে।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, কিছুদিন আগে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. সালামের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষকে আইনি জটিলতায় ফেলতে গত ১৫ জুন মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে তিনি একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।
পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত পরিচালনা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত শুনানিতে সাক্ষীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হন যে, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরপর আদালত বাদীকে নির্দেশ দেন, মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে। তবে সম্ভাব্য আইনি পরিণতি বিবেচনায় মো. সালাম আদালতে উপস্থিত না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
বাদী অনুপস্থিত থাকলেও অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত তিন দিন কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত মো. সালাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার সাজা কার্যকর করার লক্ষ্যে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

