জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘শিখা অনির্বাণ’-এর চিরজ্বলন্ত শিখা আপাতত সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে না।
গত ২ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তবে জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সামরিক আনুষ্ঠানিকতার সময় শিখাটি আগের মতোই প্রজ্বলিত করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিখা অনির্বাণের শিখা নিভিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় আইএসপিআর জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সেই কর্মসূচির আওতায় শিখা অনির্বাণের শিখাও নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালিয়ে রাখা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত কেবল জ্বালানি ব্যবহারে সংযম প্রদর্শনের একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর সঙ্গে স্মৃতিসৌধটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি রাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিখা অনির্বাণ সেই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে আগের মতোই সম্মান ও মর্যাদা পাবে।
বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন, সামরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানের সময় শিখাটি প্রজ্বলিত করা হবে। তবে এসব অনুষ্ঠান ছাড়া বাকি সময়ে এটি নিভিয়ে রাখা হবে, যাতে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দেশই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশও একই বাস্তবতায় সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যয় হ্রাসে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিখা অনির্বাণের শিখা সাময়িকভাবে সার্বক্ষণিক না জ্বালানো একটি প্রতীকী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও এটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ব্যয়সংকোচন নীতির প্রতিফলন। তবে একই সঙ্গে তারা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমন প্রতীকগুলোর ঐতিহাসিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যথাযথভাবে শিখা প্রজ্বলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণ মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও অবদানের স্মৃতিকে ধারণ করে নির্মিত একটি স্মারক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে এটি দেশের সামরিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

