উদ্বোধনের পর থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতু ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৬৮ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এ সময় সেতু থেকে টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয় ২০২২ সালের ২৫ জুন। পরদিন ২৬ জুন থেকে সেতুটি সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। একই সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বর্তমানে পদ্মা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় করা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ অর্থ প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তির মাধ্যমে মোট ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ পর্যন্ত টোল থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কোনো কিস্তির অর্থ বকেয়া নেই। এ ছাড়া টোল আদায়ের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর হিসেবে ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
সেতু বিভাগের মতে, পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক অবদান রেখে চলেছে।

