বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, জালিয়াতি ও আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।
রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
আজ বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তলব করা নথিপত্র পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ অনুসন্ধানের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।
চাওয়া নথির মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সাল এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
এ ছাড়া ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে বিতরণ করা প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং তারা কত পরিমাণ প্রণোদনা পেয়েছে, সে-সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
দুদক কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা অনুমোদনের নথি, এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের দায়িত্বকালে বিশেষ একটি গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্রও তলব করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার অনুসন্ধান প্রতিবেদনের অনুলিপিও কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

