সরকারের একজন উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশার ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন কলামিস্ট শরীফুল হাসান।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকারে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন লেনদেন স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন তৈরি করে।
শরীফুল হাসান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, প্রথম আলোর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গত বছরের সেপ্টেম্বরে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীকের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার কীটনাশক কিনেছে।
তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি এর আগে কখনো সিটি করপোরেশনে মশা নিধনের ওষুধ সরবরাহ করেনি। এ কারণে উপদেষ্টা হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে তিনি আরও মন্তব্য করেন, বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের পরিস্থিতিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা হয় এবং এটি নিয়ে কঠোর নীতিমালা রয়েছে।
এছাড়া শরীফুল হাসান একই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সরকার যে অবস্থানের কথা বলেছে, বাস্তব পরিস্থিতি সে দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি জরিপের উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে শরীফুল হাসান দেশের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সূত্র: কলামিস্ট শরীফুল হাসানের ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত

