মানবসম্পদ উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ব্যয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের প্রায় ৬ শতাংশ। অতীতে এ খাতে বরাদ্দের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই পর্যালোচনা সভায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ এখনো সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকেই বহন করতে হয়। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলও অর্জিত হচ্ছে না। পরিকল্পনার দুর্বলতা, জনবল সংকট এবং প্রকৃত প্রয়োজন নির্ধারণ না করেই অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেক হাসপাতাল ও ভবন পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, ব্যবস্থাপনা ও সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় জরুরি ভিত্তিতে জনবল প্রয়োজন এবং কোথায় আদর্শ জনবল কাঠামো গড়ে তোলা দরকার—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতি দুই মাস অন্তর পর্যালোচনা সভা আয়োজন এবং সভার আগে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের প্রস্তাব দেন তিনি। এতে অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে মূল্যায়ন করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষতা, সমন্বয় এবং সুশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পর্যালোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মনিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

