মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকেও শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনগুলোতেও উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছরের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বিশ্বের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ত্যাগ, ঐতিহ্য ও মানবিক আদর্শের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
চিঠিতে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহায়তা ও মানবিক ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন এ ক্ষেত্রে মূল্যবান ভূমিকা রাখছে।
চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তা কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো চিঠিতে গুরুত্ব পাওয়ায় স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

