দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩১ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী যেমন রয়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গও শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপর চাপও অব্যাহত রয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে ১০৬ জন শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯২৫ জন। সব মিলিয়ে একদিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জন।
এই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৭৮ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯০৪ জন। অর্থাৎ প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকলেও সংক্রমণের ধারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৪৫ শিশু। এছাড়া পরীক্ষায় হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৩ শিশুর। ফলে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে।
একই সময়ের হিসাবে সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ হাজার ৬৩২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮৫ হাজার ১২২ জন বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও অনেক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদান কর্মসূচির শতভাগ সফলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করলেও সময়মতো টিকা না নিলে জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে। অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এবং চিকিৎসায় বিলম্ব হলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের জটিলতার মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এসব কারণেই মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়।
তাদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। তবে সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা বিবেচনায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার এবং শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হামের টিকা সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

