প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি আবাস হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ প্রস্তুত রাখা হলেও তিনি আপাতত সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন না। পরিবর্তে রাজধানীর গুলশানের বর্তমান বাসভবন থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার বাসভবনটিকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে বাড়িটি এবং আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ১৫ জুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেপিআই–সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গুলশানের প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি তার স্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাসভবনটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান সপরিবারে এই বাড়িতেই বসবাস করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও এখান থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সরকারি সূত্র বলছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত আবাস হিসেবে গুলশানের বাসভবনই ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে ভবনটিকে কেন্দ্র করে স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক নতুন ব্যবস্থা যুক্ত হবে। ভবনের আঙিনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ ব্যবস্থার সার্বিক তদারকিতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, বাসভবনের চারপাশের সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট করা হবে। এর ওপর অতিরিক্ত তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আশপাশের উঁচু ভবন থেকে সম্ভাব্য নজরদারি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু থাকবে।
এ ছাড়া কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন নির্মাণের অনুমতি থাকবে না। ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে উঁচু ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কেপিআই নিরাপত্তা ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভবনের আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এমন গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বাসভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে সার্বক্ষণিক থাকবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

