২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে সীমান্তজুড়ে বিএসএফ সংশ্লিষ্ট অন্তত ২১টি সহিংস ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশি নিহত, ১০ জন আহত এবং একজন অপহরণ বা আটক হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
আসকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজন বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে তিনজন শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত পৃথক ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। একজন বাংলাদেশিকে অপহরণ বা আটক করার অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে একটি বিষয় আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিএসএফের ধাওয়া খেয়ে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি। একইসঙ্গে এ সময়ের মধ্যে আটক বা অপহরণের পর কাউকে ফেরত দেওয়ার কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
আসক জানিয়েছে, তাদের এই পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সীমান্তসংক্রান্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণের আওতায় এসেছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, সীমান্তে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তুলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
আসক আরও জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন তৈরিতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনাগুলো সংকলন করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

