বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন আদালতে একযোগে ৩৮ জন বিচারকের পদোন্নতি ও বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চারজন বিচারক পদোন্নতি পেয়েছেন, আর ৩৪ জনকে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের চারজন সদস্যকে সিনিয়র সিভিল জজ পদ থেকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতির পাশাপাশি তাদের নতুন কর্মস্থলেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব পদোন্নতি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিচারকরা নির্ধারিত কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন।
একই দিনে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের আরও ৩৪ জন বিচারককে দেশের বিভিন্ন আদালতে বদলি করা হয়েছে। তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আদালতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ দিতে বলা হয়েছে। যোগদানের সময়সীমা এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা প্রজ্ঞাপনেই উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার বিভাগে এ ধরনের পদোন্নতি ও বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। আদালতের কার্যক্রমে ভারসাম্য বজায় রাখা, বিচারক সংকট মোকাবিলা, দক্ষ মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সময়ে সময়েই এ ধরনের রদবদল করা হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন আদালতে মামলার চাপ, বিচারকের সংখ্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অভিজ্ঞ বিচারকদের প্রয়োজনীয় স্থানে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হয় এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ে।
আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বদলি ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে বিচারিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শক্রমে এ ধরনের পদোন্নতি ও বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রয়োজনভিত্তিক জনবল পুনর্বিন্যাস বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

