দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলার জট কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা বিচারাধীন বন্দিদের মামলাও দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও সংরক্ষণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহের মতো কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছেন কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটরা।
তিনি আরও জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পান।
আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু আদালতের কার্যক্রম নয়, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের মাধ্যমেও বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তদন্ত, বিচার ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা কমবে এবং বিচার ব্যবস্থায় গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

