চট্টগ্রামের আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগমন ও প্রস্থান—উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এদিন সকাল পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট বাতিল, দীর্ঘ বিলম্ব বা বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীসেবা, উড্ডয়ন এবং অবতরণ—সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যাত্রীদেরও আগের দিনের মতো কোনো ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে না।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগমন ও প্রস্থান করা অধিকাংশ ফ্লাইট ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। এছাড়া খারাপ দৃশ্যমানতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি উড়োজাহাজ চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্বিত করা বা বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও এতে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধি অনুসারেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। আকাশ পরিষ্কার হওয়া এবং বাতাসের গতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসায় বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আকাশপথে উড্ডয়ন ও অবতরণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ধরনের জটিলতা নেই এবং যাত্রীদেরও নির্ধারিত সময়েই বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

