দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। পাশাপাশি আক্রান্তের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৭ হাজার ৭৪৭ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা এবং অপরজন খুলনা বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তবুও নতুন সংক্রমণের ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা যেখানে পরিষ্কার পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতেই বংশবিস্তার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমিভাব বা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে ডেঙ্গুর জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদফতর নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোকে মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে জনসচেতনতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

