পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শুধু গাছ লাগানোর ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডুলাহাজারা থেকে কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় কয়েক লাখ গাছ কাটা হয়েছিল। সে সময় সরকারিভাবে ৭ লাখ গাছ রোপণের দাবি করা হলেও পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাস্তবে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো গাছ লাগানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে ‘সত্যিই দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অসঙ্গতি এড়াতে কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, যে কোনো স্থানে ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই হবে না। এলাকার মাটি, পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপযোগী প্রজাতির গাছ নির্বাচন করেই বৃক্ষরোপণ করতে হবে, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজায়ন কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনেরও পূর্বশর্ত। তিনি প্রত্যেক নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি শিশুর পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক—এভাবেই সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা সম্ভব।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল’—এই তিন নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের এবং পরিবারের সুস্থতার জন্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব।

