দেশের প্রায় ১১ কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগের অনুসন্ধান আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগের উৎস, তথ্য ফাঁসের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুদকের কাছে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১১ কোটি নাগরিকের তথ্যভান্ডারের একটি ‘মিরর কপি’ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অমান্য করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেডের মাধ্যমে নাগরিকদের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দেশ-বিদেশের ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ বা বিক্রি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের অক্টোবরে নাগরিকদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর, বিনিময় বা বিক্রি করা যাবে না। অভিযোগ উঠেছে, ওই শর্ত লঙ্ঘন করেই তথ্য ফাঁস ও বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে একই ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

