তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় একটি ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই কারখানা গড়ে তোলা হবে। সরকারের আশা, এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। পরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে তিনি বলেন, তুরস্কের সহযোগিতায় বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে ড্রোন কারখানা নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দর না থাকায় এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর নতুন যুদ্ধবিমানগুলো এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগত উন্নয়নের অপেক্ষায় ছিল। অতীতে এর উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি এবং ড্রোন কারখানা—এই তিনটি প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

