দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং দুর্গত মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় প্রতিটি বন্যাকবলিত এলাকায় ফোকাল পারসন নিয়োগ, দ্রুত মেডিকেল টিম গঠন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুদ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগে অবিলম্বে একজন করে ফোকাল পারসন মনোনীত করতে হবে। তিনি স্থানীয় কন্ট্রোল রুম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যসংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, খাবার স্যালাইন (ওআরএস), শিরায় প্রয়োগযোগ্য স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট আগেভাগেই মজুদ রাখতে হবে। বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা থাকায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংকট দূর করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ওপর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত গণমাধ্যমকে হালনাগাদ তথ্য জানাতেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১২ জুলাই এ বিষয়ে একটি জরুরি সংবাদ ব্রিফিং আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, বন্যা পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড়, মাতৃস্বাস্থ্য জটিলতা এবং অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

