বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীনকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সভায় বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচন এবং বার কাউন্সিলকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। সভায় অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদলকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিনকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে আইন শিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলনকে আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান এবং অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
এ ছাড়া সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপুকে হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ত্রাণ কমিটির চেয়ারম্যান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরকে রোল ও প্রকাশনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং ব্যারিস্টার মো. নাসির উদ্দিন অসীমকে অভিযোগ ও তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ভ্রমণ ভাতা, সম্মানী, পারিতোষিক বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থায় পরিণত করতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অতীতে কোনো কাউন্সিল সদস্য আইনগতভাবে প্রাপ্যের অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেই অর্থ বার কাউন্সিলের তহবিলে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে বার কাউন্সিলের কোনো সভায় আপ্যায়নের ব্যয় তহবিল থেকে বহন করা হবে না; সদস্যরা পর্যায়ক্রমে নিজ উদ্যোগে এ ব্যয় বহন করবেন।
আইনজীবীদের কল্যাণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে নিয়মিত এনরোলমেন্ট ও হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা আয়োজন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আইনজীবীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

