Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুলাই 15, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শোষণশীল নগর কি বাংলাদেশকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে পারে
    বাংলাদেশ

    শোষণশীল নগর কি বাংলাদেশকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে পারে

    নিউজ ডেস্কজুলাই 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে বর্ষা এখন আর শুধু ঋতুর নাম নয়, অনেক মানুষের কাছে এটি ভোগান্তির আরেক নাম। কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি হলেই ঢাকার প্রধান সড়ক ডুবে যায়, চট্টগ্রামের ব্যস্ত এলাকা থমকে দাঁড়ায়, দোকানপাটে পানি ঢোকে, যানবাহন আটকে থাকে, আর মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    এমন দৃশ্য এখন এতটাই পরিচিত হয়ে গেছে যে অনেকেই একে শহুরে জীবনের স্বাভাবিক দুর্ভোগ হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভারী বৃষ্টি কি শুধু ঢাকায় বা চট্টগ্রামেই হয়? পৃথিবীর অনেক শহরেই প্রবল বৃষ্টি হয়, ঘূর্ণিঝড় আসে, নদীর পানি বাড়ে। তবু সব শহর দিনের পর দিন পানির নিচে থাকে না। পার্থক্যটি শুধু বৃষ্টির পরিমাণে নয়; আসল পার্থক্য হলো, একটি শহর বৃষ্টির পানি কীভাবে সামলায়।

    ঢাকা ও চট্টগ্রামের সংকট এখানেই। একদিকে বৃষ্টির পানি সরাতে না পারায় শহর ডুবে যায়, অন্যদিকে একই শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নামছে। অর্থাৎ আকাশ থেকে পানি নামছে, শহর ডুবছে, কিন্তু সেই পানি মাটির নিচে ফিরে যেতে পারছে না। বরং প্রায় সব পানি দ্রুত নালায়, খালে, নদীতে বা পাম্পের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কমছে না, আবার পানির প্রাকৃতিক ভান্ডারও ভরছে না।

    এই দ্বিমুখী সংকটই বাংলাদেশকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। শুধু ড্রেন, পাম্প, বাঁধ আর স্লুইসগেট দিয়ে কি শহরের জলাবদ্ধতা সামাল দেওয়া যাবে? নাকি শহরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে বৃষ্টির পানি শুধু সরিয়ে না দেয়, কিছুটা ধরে রাখে, শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়?

    ধূসর অবকাঠামোর সীমা স্পষ্ট হয়ে উঠছে

    বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমাধান হিসেবে মূলত ধূসর অবকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ধূসর অবকাঠামো বলতে বোঝানো হয় নালা, পাম্প, বাঁধ, স্লুইসগেট, কংক্রিটের খালপাড়, পানি নিষ্কাশন পথ এবং বড় প্রকৌশলভিত্তিক নির্মাণকাজ। এসব ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কোনো শহর শুধু পুকুর, গাছপালা বা খোলা জায়গার ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। কিন্তু সমস্যা হলো, বাংলাদেশে এগুলোকেই প্রায় একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছে।

    চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা কমাতে ১১,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা। এই প্রকল্পের আওতায় খাল খনন, প্রতিরক্ষা দেয়াল, স্লুইসগেট ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় বিনিয়োগের পরও তিন মাসের মধ্যে দুবার চট্টগ্রামের মানুষ ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কংক্রিটের অবকাঠামো বাড়ালেই কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে?

    চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে সংকট আরও জটিল। শহরটির পাহাড়ি মাটি নরম। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি মাটি ধুয়ে নেমে আসে এবং খাল ও ড্রেন ভরাট করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা। হাজার হাজার টন কঠিন বর্জ্য যখন নালা ও খালে জমে, তখন পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শুধু খাল খনন করলেই হবে না; নিয়মিত পলি অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাল দখল বন্ধ করাও সমান জরুরি।

    ঢাকার অবস্থাও খুব ভিন্ন নয়। সাম্প্রতিক এক রোববার ছয় ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭৬ মিলিমিটার পানি নেমে রাজধানীর বহু সড়ক ডুবে যায়। যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অথচ এই শহরেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে, আর সেই পানির স্তর নিচে নামছে। অর্থাৎ শহর পানি পায় না, আবার বৃষ্টির দিনে পানিতেই ডুবে থাকে। এই বৈপরীত্য নগর ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা দেখায়।

    শহর যদি পানি শোষণ করতে পারত

    বিশ্বের অনেক শহর এখন এমন ধারণার দিকে ঝুঁকছে, যেখানে শহরকে কেবল পানি সরানোর যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মতো ভাবা হয়। এই ধারণার মূল কথা হলো, শহরের ভেতরে এমন জায়গা তৈরি করতে হবে, যেখানে বৃষ্টির পানি কিছুক্ষণ জমতে পারবে, ধীরে ধীরে মাটিতে ঢুকবে এবং অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দেবে।

    এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় পানি শোষণযোগ্য রাস্তা, বৃষ্টিবাগান, ঘাসঘেরা নালা, জলাধার, পুকুর, খাল, জলাভূমি, সবুজ মাঠ, পার্ক এবং নিচু জমি। এগুলো একসঙ্গে কাজ করলে বৃষ্টির পানি একসঙ্গে ড্রেনের ওপর চাপ তৈরি করে না। বরং পানি ছড়িয়ে যায়, কিছুটা জমে থাকে, কিছুটা মাটিতে ঢোকে, আর বাকিটা ধীরে ধীরে নিষ্কাশিত হয়।

    চীনের প্রায় ৮০টি শহরে এমন পদ্ধতির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সেখানে লক্ষ্য হলো বৃষ্টির পানির সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা। জলাভূমি, পুকুর, পানি শোষণযোগ্য পথ, সবুজ এলাকা ও কৃত্রিম জলাধার ব্যবহার করে এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংহাই শহরে শোষণশীল পার্ক ও কৃত্রিম হ্রদ তৈরি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়জনিত প্রবল বৃষ্টির সময় শহরকে পানি সামলাতে সাহায্য করেছে।

    চেন্নাই জলাভূমি পুনরুদ্ধার করেছে এবং নগর পরিকল্পনায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার নালা ও জলাধার যুক্ত করেছে। জাকার্তা বন্যাকে একেবারে তাড়িয়ে দেওয়ার বদলে পানির সঙ্গে সহাবস্থানের কৌশল নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে নদীতীরের মানুষকে সরিয়ে না দিয়েও বন্যা সহনশীলতা বাড়ানো যায়।

    বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের শহরগুলোর সমস্যা শুধু পানি জমে থাকা নয়; একই সঙ্গে পানির উৎস হারানোও একটি বড় সমস্যা।

    চট্টগ্রামের পরিকল্পনায় যা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি

    চট্টগ্রামের ১৯৯৫–২০১৫ মহাপরিকল্পনায় খাল, জলাধার, সবুজ এলাকা ও উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে শহরের প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চারটি খাল খননের প্রস্তাব ছিল। একই সঙ্গে পাহাড়, পুকুর, জলাশয় ও খোলা জায়গা রক্ষার কথাও বলা হয়েছিল।

    নগর পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ রশিদুল হাসানের মতে, যদি আগের পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়িত হতো, বিশেষ করে চারটি খাল পুনরুদ্ধার এবং পুকুর সংরক্ষণ করা যেত, তাহলে আজ চট্টগ্রামের অবস্থা অনেক ভালো হতে পারত।

    নতুন মহাপরিকল্পনাতেও এসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে শহর বিস্তারের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। পানির নিচের সুড়ঙ্গের মাধ্যমে দুই পাশ যুক্ত হওয়ায় শহরকে নতুনভাবে ভাবা হচ্ছে। এতে ১১টি উপনগর এবং ৬টি শিল্পাঞ্চলের কথা রয়েছে। পরিকল্পনায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহের বিষয়ও যুক্ত আছে। তবে পানি সরবরাহ এখনো অনেকাংশে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল।

    এখানেই বড় প্রশ্ন। যদি নতুন শহর, নতুন শিল্পাঞ্চল ও নতুন আবাসন গড়ে ওঠে, কিন্তু বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম আরও বড় জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    ঢাকার হারানো খাল ও জলাশয়ের মূল্য

    ঢাকার ইতিহাসে খাল ছিল শহরের প্রাণ। একসময় শহরের ভেতর দিয়ে বহু খাল প্রবাহিত হতো। এসব খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল না, বরং শহরের পরিবেশ, জলাধার, নৌপথ এবং ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের অংশ ছিল। কিন্তু দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অবহেলার কারণে এসব খালের অনেকগুলো হারিয়ে গেছে। কিছু খাল হয়তো আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু যেগুলো এখনো আছে, সেগুলো রক্ষা করা জরুরি।

    খাল শুধু চারপাশের পানি সংগ্রহ করে না; পানি ধরে রাখে এবং সেই পানির একটি অংশ মাটির নিচে যেতে সাহায্য করে। হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ী খালের কিছু অংশ পুনর্খনন ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেখা গেছে, শহরের বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এই ধরনের জলাধার আরও উন্নতভাবে পরিচালনা করা গেলে তা শুধু জলাবদ্ধতা কমাবে না, ভবিষ্যতে মিঠা পানির ভান্ডার হিসেবেও কাজে লাগতে পারে।

    ২০১৭ সালের এক গবেষণায় ঢাকার কল্যাণপুর, ধোলাইখাল, রায়েরবাজার এবং উত্তরা থেকে দক্ষিণখান এলাকার জলাশয় ও খাল উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। গবেষকেরা মত দেন, ব্যয়বহুল প্রকৌশলনির্ভর প্রকল্পের বাইরে গিয়ে কম ব্যয়ের, স্থানীয় অংশগ্রহণভিত্তিক এবং আইন প্রয়োগনির্ভর সমাধানেও অনেক জলাশয় রক্ষা করা সম্ভব।

    বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলচত্বর, বৃষ্টিবাগান, ঘাসঘেরা নালা, খালপাড়ে হাঁটার পথ, সবুজ বেষ্টনী এবং পানি শোষণযোগ্য পেভমেন্ট—এসব ব্যবস্থা খুব বড় ব্যয় ছাড়াই শহরের পানি সামলানোর ক্ষমতা বাড়াতে পারে। কিন্তু এর জন্য দরকার দখল বন্ধ করা, খোলা জায়গা রক্ষা করা এবং নগর পরিকল্পনাকে কাগজ থেকে বাস্তবে নামানো।

    পানি সরানো নয়, পানি ব্যবস্থাপনাই আসল

    বাংলাদেশের শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হলেই সাধারণত প্রশ্ন ওঠে, ড্রেন পরিষ্কার আছে কি না, পাম্প চলছে কি না, খাল খনন হয়েছে কি না। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই আলোচনায় আরেকটি প্রশ্ন কম গুরুত্ব পায়: শহর কি বৃষ্টির পানি মাটিতে ঢুকতে দিচ্ছে?

    যখন একটি শহরের অধিকাংশ এলাকা কংক্রিট, পিচ, ইট ও ভবনে ঢেকে যায়, তখন বৃষ্টির পানি মাটিতে ঢোকার সুযোগ পায় না। পানি দ্রুত রাস্তা, ড্রেন ও নিচু এলাকায় জমে যায়। ড্রেনের ক্ষমতা যতই বাড়ানো হোক, অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সেই পানি একসঙ্গে এসে চাপ তৈরি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা বাড়লে এই চাপ আরও বাড়বে।

    তাই নগর পরিকল্পনায় এখন শুধু পানি বের করে দেওয়ার কথা ভাবলে চলবে না। পানি কোথায় জমবে, কোথায় মাটিতে ঢুকবে, কোন পার্ক বা মাঠ সাময়িক জলাধার হিসেবে কাজ করবে, কোন খাল কতটা পানি ধরে রাখতে পারবে, কোন সড়ক পানি শোষণযোগ্য হবে—এসব প্রশ্নকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনতে হবে।

    খরচের প্রশ্ন ও বাস্তবতার হিসাব

    সাংহাইয়ের শোষণশীল নগর প্রকল্পে প্রায় ২৩ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। তুলনায় চট্টগ্রাম গত এক দশকে চারটি বড় প্রকল্পে এর প্রায় পাঁচ গুণ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। এখন চট্টগ্রামে আরও ৩,৮৭১ কোটি টাকার দুটি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প আসছে। প্রশ্ন হলো, এই প্রকল্পগুলোতে কি পানি শোষণ, পানি ধরে রাখা, পুকুর সংরক্ষণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং সবুজ অবকাঠামোর নীতি যুক্ত করা হবে?

    যদি একই পুরোনো ধারায় শুধু কংক্রিটের দেয়াল, ড্রেন ও পাম্পের ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে কিছু জায়গায় পানি দ্রুত নামলেও সামগ্রিক সমস্যা থেকে যাবে। বরং জলাবদ্ধতা এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় সরে যেতে পারে। কিন্তু যদি প্রকল্পের সঙ্গে পুকুর, খাল, জলাভূমি, নিচু জমি ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ যুক্ত হয়, তাহলে শহরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়বে।

    নগর পরিকল্পনাবিদ রশিদুল হাসান পুকুর সংরক্ষণে মালিকদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি বাস্তবসম্মত ধারণা। কারণ শহরের ভেতরে অনেক পুকুর ব্যক্তিমালিকানাধীন। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সব পুকুর রক্ষা করা কঠিন। কিন্তু করছাড়, উন্নয়ন সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা বা বিশেষ স্বীকৃতি দিলে মালিকদের পুকুর ভরাট না করে সংরক্ষণে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

    আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়

    বাংলাদেশে জলাশয় রক্ষার আইন ও নীতিমালা একেবারে নেই, তা নয়। কিন্তু সমস্যা হলো বাস্তব প্রয়োগে। অনেক খাল দখল হয় প্রকাশ্যে। পুকুর ভরাট হয় রাতারাতি। জলাভূমি কাগজে থাকে, বাস্তবে সেখানে ভবন ওঠে। নগর কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের সীমা অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে। ফলে দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

    চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক প্রকল্পে নতুন অবকাঠামো তৈরি হলেও এগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ও অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এই ধরনের অস্পষ্টতা বড় সমস্যা। কারণ শুধু নির্মাণ করলেই হবে না; প্রতিদিন পরিষ্কার রাখতে হবে, বর্জ্য ঠেকাতে হবে, পলি সরাতে হবে, দখল রোধ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হবে।

    ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের মতো শহরে জলাবদ্ধতা কমাতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। কে খাল দেখবে, কে ড্রেন পরিষ্কার করবে, কে পুকুর রক্ষা করবে, কে দখল উচ্ছেদ করবে, কে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা অনুমোদন দেবে—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর দরকার।

    নাগরিকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ

    শহরের জলাবদ্ধতা শুধু সরকারের ব্যর্থতা নয়; নাগরিক আচরণও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। নালা ও খালে ময়লা ফেলা, নির্মাণসামগ্রী রাস্তার পাশে রেখে দেওয়া, খালপাড় দখল করা, পুকুর ভরাটে নীরব থাকা—এসব আচরণ সমস্যাকে বাড়ায়। আবার বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দপ্তর, বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুললেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

    প্রতিটি বড় ভবনে ছাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। আবাসিক এলাকার খোলা জায়গায় বৃষ্টিবাগান তৈরি করা যেতে পারে। পার্কে এমন নিচু অংশ রাখা যেতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি অস্থায়ীভাবে জমবে। ফুটপাত ও গাড়ি রাখার জায়গায় পানি শোষণযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব ছোট উদ্যোগ একসঙ্গে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশের জন্য পথ কোন দিকে

    বাংলাদেশের শহরগুলোকে এখন দ্বৈত বাস্তবতা মাথায় রেখে এগোতে হবে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি বাড়ছে। অন্যদিকে নগরায়ণের চাপে খাল, পুকুর, জলাভূমি ও খোলা জায়গা কমছে। এই দুই প্রবণতা একই সঙ্গে চললে ভবিষ্যতের জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    তাই শহরকে শুধু দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার যন্ত্র বানালে হবে না। শহরকে পানি ধরে রাখার সক্ষমতাও দিতে হবে। বড় ড্রেন দরকার, কিন্তু ড্রেনের সঙ্গে খালও দরকার। পাম্প দরকার, কিন্তু পুকুরও দরকার। বাঁধ দরকার, কিন্তু জলাভূমিও দরকার। রাস্তা দরকার, কিন্তু পানি শোষণযোগ্য মাটি ও সবুজ এলাকাও দরকার।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নগর পরিকল্পনাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। পরিকল্পনায় খাল থাকবে, কিন্তু বাস্তবে দখল হয়ে যাবে—এভাবে চললে কোনো সমাধান টেকসই হবে না। প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ হবে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ থাকবে না—তাহলেও ফল মিলবে না। জলাবদ্ধতা কমাতে হলে নির্মাণের চেয়ে ব্যবস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    বাংলাদেশের শহরগুলো এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পুরোনো পদ্ধতি দিয়ে ভবিষ্যতের সমস্যা সামলানো কঠিন হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা দেখিয়েছে, শুধু কংক্রিটের অবকাঠামো যথেষ্ট নয়। শহরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি তার শত্রু না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়।

    আকাশ থেকে নামা পানি যদি কয়েক ঘণ্টার দুর্ভোগের পর নালায় হারিয়ে যায়, আর একই সঙ্গে শহর যদি পানির অভাবে ভূগর্ভস্থ স্তর শূন্য করে ফেলে, তবে সেটি পরিকল্পনার ব্যর্থতা। এর বদলে শহরকে পানি শোষণ করতে শেখাতে হবে, জলাশয়কে সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে, খালকে জীবন্ত রাখতে হবে, পুকুরকে রক্ষা করতে হবে এবং নাগরিক জীবনকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করতে হবে।

    বাংলাদেশের নগর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই সিদ্ধান্তের ওপর: আমরা কি শুধু পানি সরাব, নাকি পানি বুঝে, ধরে রেখে, কাজে লাগিয়ে শহরকে বাঁচাব?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

    জুলাই 14, 2026
    অপরাধ

    চট্টগ্রামে একের পর এক চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলা, আড়ালে কারা?

    জুলাই 14, 2026
    বাংলাদেশ

    ডেঙ্গুতে আরও দুই নারীর মৃত্যুসহ মোট সংখ্যা ২৭ জন

    জুলাই 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.