ফেসবুকে করা একাধিক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূইয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়। এর আগে ১৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকা হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলার অভিযোগ তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুল, ১৯৮৩-এর বিধি অনুযায়ী তাকে ১৪ জুলাই থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (ডিসমিসাল ফ্রম সার্ভিস) করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ মে জারি করা পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ওই সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন অভিযোগ করেছিল, তিনি ফেসবুক পোস্টে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কিছু কর্মচারীকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল।
এ ছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ নির্দেশনা অমান্য করতে অন্য কর্মচারীদের উৎসাহিত করা এবং অফিসে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুল, ১৯৮৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিধি ১০(১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

