কোরবানির পশু কেনাবেচায় ওজন নিয়ে অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে দেশের সব পশুর হাটে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে লাইভ ওয়েটে (Live Weight) পশু বিক্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটটির নম্বর ৯৫০৩/২০২৬। রিটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালককেও বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সাধারণ বাজারে মাছ, মাংস কিংবা হাঁস-মুরগি নির্দিষ্ট ওজন অনুযায়ী বিক্রি হলেও কোরবানির গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচার ক্ষেত্রে এখনো কোনো নির্ধারিত ওজনভিত্তিক ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্রেতাদের কেবল বাহ্যিক আকার-আকৃতি দেখে অনেক সময় কয়েক লাখ টাকা মূল্যের পশু কিনতে হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে থাকে। এতে সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। রিটকারীর দাবি, এমন পরিস্থিতি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৪১ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিটে ওজনে সঠিক পরিমাপের বিষয়ে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনারও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সূরা আল-ইসরার ৩৫ নম্বর আয়াতে সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাপে কম না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরবের পশুর হাটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রিটে দাবি করা হয়েছে, দেশটিতে গবাদিপশু জীবন্ত ওজন বা লাইভ ওয়েটের ভিত্তিতে বিক্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন, নীতিমালা বা কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়েন।
রিটকারী আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) বলেন, কোরবানির পশু ওজনের ভিত্তিতে বিক্রি করা ইসলামী শরিয়তের ন্যায়ভিত্তিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি আধুনিক ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার ধারণারও প্রতিফলন। তাঁর মতে, ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের প্রভাব কমবে।
রিটে আগামী ঈদুল আজহা থেকে দেশের প্রতিটি পশুর হাটে সরকারি সংস্থার প্রত্যয়নপ্রাপ্ত ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে লাইভ ওয়েটে কোরবানির পশু বিক্রির ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা (ম্যান্ডামাস) জারির আবেদন জানানো হয়েছে। আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) জানান, জনস্বার্থে করা এই রিটটি শিগগিরই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

