আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এবারের বাজেটে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে বাজেট অনুমোদন করা হয়।
অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা পুরো বাজেটের প্রায় ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি মোট বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উন্নয়ন বাজেটের ৪৫ শতাংশেরও বেশি।
অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএনসিসির রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা মোট সম্ভাব্য আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ।
তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সিটির হাতে থাকা প্রারম্ভিক অর্থের পরিমাণ কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যেখানে এ স্থিতি ছিল ৮৫০ কোটি টাকা, সেখানে নতুন অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রারম্ভিক স্থিতি প্রায় ১৯০ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে। রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ।
এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনায় দেখা গেছে, হোল্ডিং ট্যাক্স, পরিচ্ছন্নতা, লাইটিং ও স্বাস্থ্য কর থেকে মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে ৭৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মোট আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি অর্থ ট্রেড লাইসেন্স, সড়ক খনন ফি, বিজ্ঞাপন কর, গরুরহাট এবং অন্যান্য উৎসের পাশাপাশি সরকারি ও বৈদেশিক অনুদান থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

