Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুলাই 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা
    বাংলাদেশ

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা

    নিউজ ডেস্কজুলাই 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    প্রায় দু’বছর ধরে ভারতের মাটিতে থাকা শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ভারতে পর্যবেক্ষকরা এই বক্তব্যকে যত না একটি ‘দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা’ বলে মনে করছেন – তার চেয়ে বেশি ‘জল মাপার চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছেন।

    আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে দিল্লির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত কয়েকদিনের মধ্যে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বিবিসিকে যা বলেছেন, তার মর্মার্থ – ভারত শেখ হাসিনাকে নিজে থেকে ডেকে এনে আশ্রয়ও দেয়নি, আবার এখন তাকে জোর করে তাড়িয়েও দিচ্ছে না।

    “এখন পরিস্থিতি যাচাই করে তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, ফিরবেন। আর যদি মনে করেন ভারতেই এখন থাকবেন, তাহলে তাই। সত্যিই এ ব্যাপারে আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই,” – এমনও মন্তব্য করেছেন সাউথ ব্লকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হতে পারে, এটা জেনেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ “তবু আমাকে ফিরতেই হবে।”

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে গত কয়েকদিনে বিবিসি বাংলা দিল্লিতে একাধিক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকের সঙ্গে যেমন কথা বলেছে, তেমনি যোগাযোগ করেছে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকের সঙ্গেই। সেই সব আলোচনা থেকে প্রধানত দুটো জিনিস উঠে এসেছে, যা নিয়ে মোটামুটি সব পক্ষই একমত।

    প্রথমত, শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন মানেই তিনি ডিসেম্বরে ভারত থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ঢাকায় গিয়ে অবতরণ করবেন – এমনটা নাও হতে পারে। বরং মাঝের এই পাঁচ মাসে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, বাংলাদেশ সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, হাসিনার জন্য নতুন করে বিচারের ব্যবস্থা করা হয় না কি মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব শেখ হাসিনাকে নিয়ে কী মনোভাব দেখায় – এই সব ফ্যাক্টরের ওপরই নির্ভর করবে শেখ হাসিনা আদৌ ডিসেম্বরে ঢাকার বিমানে চাপবেন কি না।

    দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা যত যাই বলুন তিনি তার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি, পর্যবেক্ষকরা সবাই এ বিষয়েও একমত যে তিনি এই মুহুর্তে যে দেশের আতিথেয়তায় আছেন, সেই ভারতের সম্মতি ছাড়া তিনি মোটেই এই কথা বলেননি।

    আসলে ভারত সরকারও মনে করেছে, এই ঘোষণা এলে তাদের কোনো ক্ষতি তেমন নেই, বরং লাভ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এরপর শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফিরে যান তাহলে ভারত গত দু’বছর ধরে চলা একটা কূটনৈতিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবে, আর যদি না-ও ফেরেন তাহলেও এটা বলা যাবে যে শেখ হাসিনা তো ফিরতেই চেয়েছিলেন, কিন্তু তার প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় ভারত তাকে রেখে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    সুতরাং শেখ হাসিনার এই বক্তব্য আসলে ‘এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা’র সামিল বলেই মনে করা হচ্ছে – যেটাতে আপাতদৃষ্টিতে তার বা তার ‘হোস্ট কান্ট্রি’র হারানোর কিছু নেই।

    বরং উভয়ের দিক থেকেই এটা একটা সুচিন্তিত পদক্ষেপ – যার মাধ্যমে বলটা বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ সরকারের কোর্টে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবং ডিসেম্বরে ফিরতে চান বলেছেন বলেই যে তাকে সত্যিই ফিরতে হবে, এমনও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। রয়টার্সকে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্যকে দিল্লিতে কেন এভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদন সে দিকেই আলো ফেলার চেষ্টা করেছে।

    ভারত সরকারের অবস্থান কী?

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জবাব দেন, এই ইস্যুতে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে গত প্রায় দু’বছর ধরেই ভারতের ঘোষিত অবস্থান হলো – একটি বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা যখন ভারতের কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন, তখন তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই সেই আবেদনে সাড়া দেওয়া হয়েছিল।

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত এটাই বোঝাতে চায় যে, তারা নিজে থেকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে চায়নি বা তার দেশ ছেড়ে চলে আসাতেও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। অবস্থার গতিকে পড়ে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে হয়েছে, এটাই নানাভাবে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নোট ভার্বাল বা আনুষ্ঠানিক অনুরোধে কোনো জবাব না দিয়ে ভারত সেটিকে ঝুলিয়ে রেখেছে।

    ফলে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি যে একটি চরম অস্বস্তির উপাদান হয়ে রয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এখন প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন তাতে ভারতের সায় আছে কি না?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, একশোভাগ আছে। বিবিসি যে বিশ্লেষক বা সাবেক কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছে, তারা প্রত্যেকেই একমত যে ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছাড়া বা ভারতের সঙ্গে পরামর্শ না করে শেখ হাসিনা মোটেই একথা বলেননি। ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী যেমন বলছেন, “শেখ হাসিনা সত্যিই ফিরতে উৎসুক এবং সিরিয়াস বলে আমার ধারণা। আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে গেলে তার নিজের দেশে ফেরাটা দরকার, এটা নিশ্চয়ই তিনি উপলব্ধি করেছেন।” একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরলেই তাকে সরাসরি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়াটা বলা যত সহজ – আসলে করা তত সহজ নয় মোটেই।

    আমার ধারণা তিনি মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবেন এবং সেই বিচার চলাকালীন তাকে ক্যান্টনমেন্টে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হবে। এখন সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়, তার জন্য পর্দার আড়ালে দিল্লিও যদি ঢাকার সঙ্গে দরকষাকষি করে তাহলে আমি অন্তত অবাক হবো না.” বলছিলেন মি চক্রবর্তী।

    যদি সেই নিরাপত্তা কোনো কারণে নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে হয়তো তিনি শেষ পর্যন্ত ফিরবেন না। আসলে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরুন বা না ফিরুন, ভারতের কোনোটাতেই বিশেষ অসুবিধা নেই – বরং লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে দিল্লি মনে করছে।

    যদি তিনি ডিসেম্বরে সত্যিই ফিরে যান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা ভারতের জন্য অনেক সহজ হবে – কারণ শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া জনিত অস্বস্তিটা সেই কূটনীতিতে আর ছায়া ফেলবে না। তবে তিনি যদি শেষ পর্যন্ত কোনো কারণে না ফেরেন, তাহলেও ভারত বলতে পারবে শেখ হাসিনা তো নিজে থেকেই ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তার ফেরার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি বলেই ভারত তাকে রেখে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    যদি বাংলাদেশ সরকার এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে নতুন করে তার বিচার হবে, সেটাও ভারতের জন্য একটা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ দিল্লি মনে করে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এর আগে মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার যে বিচার হয়েছিল, সেটা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    শেখ হাসিনার কী হিসাব-কিতাব?

    দিল্লিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত জানানোর মধ্যে দিয়ে তারও নিজস্ব কিছু অঙ্ক বা হিসাব-নিকাশ কাজ করেছে।

    গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশে নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বারবার এ কথা শুনতে হয়েছে যে তাদের সর্বোচ্চ নেত্রী দলের অনুগত সৈনিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে নিরাপদে বিদেশে ‘পালিয়ে গেছেন’।

    এবং বাস্তবতাও হলো, বাংলাদেশে যখন একের পর এক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং দেশের নানা প্রান্তে দলীয় কর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন তখন শেখ হাসিনা-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের কোনো সুরক্ষাই দিতে পারেননি। এতদিন বাদে দেশে ফেরার একটা ‘নির্দিষ্ট দিনক্ষণ’ জানিয়ে শেখ হাসিনা এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে সিরিয়াস এবং এর মাধ্যমে তিনি নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চান, তাদের পাশে থাকতে চান।

    দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা এটাও জানেন যে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে দলটিকে ফিরিয়ে আনতে হলে তাকে সশরীরেই বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে হবে – ভারতে থেকে সেটা কখনোই সম্ভব নয়।

    দিল্লিতে প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ওয়াচার জয়ন্ত রায়চেৌধুরীর কথায়, “আমার ধারণা শেখ হাসিনা বিএনপি-কে এই বার্তাটাই দিতে চাইছেন যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে রেখে তাদের অপ্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টাটা তিনি নিজে গিয়ে রুখবেন। আর তার এই পদক্ষেপে ভারতেরও যে প্রচ্ছন্ন সায় আছে, তা বলাই বাহুল্য।”

    তিনি আরো জানাচ্ছেন, “কিন্তু মুখে অন্তত দিল্লি বলবে শেখ হাসিনা একজন ‘ফ্রি এজেন্ট’ – কাজেই তিনি তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন।” আসলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বিশেষত শেখ হাসিনা যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তার পরিবারের বাইরে কারো হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত নন, কাজেই দলের হাল ধরার শেষ চেষ্টা করতে তাকেই ফিরতে হবে, এই কাজ অন্য আর কাউকে দিয়ে হবে না।

    দ্বিতীয়ত, নিজে থেকে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকেও কিছুটা চাপে ফেলে দিতে পারবেন বলে মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালের যে বিচারে তিনি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন, সেটা নিরপেক্ষ বিচার কখনোই ছিল না, আওয়ামী লীগের এটাই অবস্থান।

    কিন্তু নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হলে তাকে আগে বাংলাদেশে ফিরতে হবে। দেশে ফিরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণের কথা বলার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা এই বার্তাও দিতে চেয়েছেন যে, তিনি দেশের বিচারবিভাগের প্রতি আস্থা রাখতে রাজি – কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেও সুষ্ঠু ও অবাধ বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    এত কিছুর পরেও দেশে ফিরব বললেও শেখ হাসিনাকে যে সত্যি সত্যিই ডিসেম্বরে ফিরতে হবে, এমনটাও নয় কিন্তু মাঝের এই সময়টায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া বোঝার সুযোগ পাবেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব তার সম্বন্ধে কী মনোভাব দেখাচ্ছে, সেটাও যাচাই করে নিতে পারবেন। এই সব ভেবেচিন্তেই তিনি বেশ কয়েক মাস হাতে রেখে দেশে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন বলে দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

    আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কী করবেন?

    ২০২৪-র অগাস্ট থেকে বেশ কয়েক হাজার ‘পলাতক’ আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থক ভারতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই থাকেন কলকাতা সংলগ্ন নিউটাউন-রাজারহাট, আসামের গুয়াহাটি বা ত্রিপুরার আগরতলার মতো বিভিন্ন শহরে। গত শুক্রবার শেখ হাসিনার বক্তব্য সামনে আসার পর থেকে তাদের অনেকের সঙ্গেই বিবিসি বাংলা কথা বলেছে। এই নেতাকর্মীরা অনেকেই বলেছেন, তারা মনে করেন বাংলাদেশ সরকার মুখে যাই বলুক, আসলে মোটেই চায় না শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন।

    “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই খুব জটিল হয়ে আছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ফিরলে তা আরও জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, বিএনপি সরকার কিছুতেই সে ঝুঁকি নিতে চাইবে না,” একাধিক শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমন ধারণাই পোষণ করছেন কিন্তু তাদের নেত্রী যদি সত্যিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, কতজন শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গী হতে রাজি হবেন?

    এই প্রশ্নেও কিন্তু মোটামুটি মিশ্র জবাবই পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, নেত্রী যখনই দেশে ফিরুন – দেশে-বিদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা ‘আওয়ামী লীগের সৈনিকরা অবশ্যই প্লেনবোঝাই করে’ তার সঙ্গে ঢাকায় ফিরতে চাইবেন কিন্তু কেউ কেউ এ কথাও বলছেন – শেখ হাসিনার নিজস্ব রাজনৈতিক প্রোফাইল, গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিতির সঙ্গে দলের অন্য কোনো নেতার প্রোফাইল বা পরিচিতির কোনো তুলনাই হতে পারে না।

    নেত্রীর নতুন করে বিচার হলে তাতে সারা দুনিয়ার, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সতর্ক নজর থাকবে। কিন্তু আমরা দেশে গেলে তো সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা মামলায় জেলে পুরে দেওয়া হবে – দুনিয়ায় কেউ জানতেও পারবে না, ফিরেও দেখবে না,” বলছিলেন শেখ হাসিনা ক্যাবিনেটের সাবেক একজন সদস্য। ফলে শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে যদি শেখ হাসিনা সত্যি সত্যি দেশে ফেরেন – দলের কতজন নেতাকর্মী প্রত্যাবর্তনের সেই যাত্রায় তার সঙ্গী হবেন, এটা আসলে আন্দাজ করা খুবই মুশকিল! সূত্র: বিবিসি

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    উত্তরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদীর পানি

    জুলাই 18, 2026
    বাংলাদেশ

    গণপরিবহন আধুনিকায়নে চালু হচ্ছে ১৪০০ বৈদ্যুতিক বাস

    জুলাই 18, 2026
    বাংলাদেশ

    সরকারি গেজেটে জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩, নতুন আবেদন নেই

    জুলাই 18, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.