টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটেও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা নদী ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা তীরবর্তী নিচু এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি নওগাঁর আত্রাই নদী ও ছোট যমুনা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সিলেট অঞ্চলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব শেষ হয়নি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, শুধু চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলাতেই প্রায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় ৮ লাখ মানুষ নিরাপদ খাবার পানির সংকটে রয়েছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা অববাহিকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাবেই উত্তরাঞ্চলের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু এখনো দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায়, পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবং উজানের ঢল আরও বাড়লে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

