জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও সরকারি গেজেট অনুযায়ী বর্তমানে স্বীকৃত জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। নতুন করে কোনো আবেদন জমা না পড়ায় এ সংখ্যায় আপাতত আর পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৮৫৬ জনের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকজনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে সরকারি গেজেটে শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ এবং আহতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম দফায় ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করে। পরে জুনে আরও ১০ জনের নাম যুক্ত হলে শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪।
পরবর্তী সময়ে আগস্টে তালিকা থেকে আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজনের নাম দ্বৈতভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বাকি চারজন সরাসরি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এতে শহীদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৮৩৬।
পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে একজন এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও তিনজনের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর এপ্রিলে নতুন করে ১২ জনের নাম যুক্ত করা হলেও ১৩ মে আরও একজনের নাম বাদ দেওয়ায় বর্তমানে সরকারি গেজেটে স্বীকৃত শহীদের সংখ্যা ৮৪৩-এ স্থির রয়েছে।
অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব গেজেট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেখানে নতুন করে আর কোনো নাম যুক্ত করা হবে না। নতুন আবেদনও জমা না পড়ায় বর্তমানে সরকারি গেজেটে শহীদের সংখ্যা ৮৪৩-ই রয়েছে।
সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সে সময়ের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অনেকের স্বজন এখনো নিখোঁজ থাকায় জুলাই শহীদের তালিকাকে এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, শহীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্ব। প্রয়োজন হলে জাতিসংঘের তথ্যও যাচাই করে একটি নির্ভুল সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত। এতে ক্ষতিপূরণ প্রদান, জনঅর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং ইতিহাস সংরক্ষণে বিভ্রান্তি দূর হবে।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকার, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। কোথাও দেড় হাজার, কোথাও দুই হাজারের বেশি, আবার কোথাও হাজার হাজার মানুষের শহীদ হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পরিসংখ্যানগুলোর একটি।
অন্যদিকে, সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সংস্থা জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে শহীদের সংখ্যা ৮২০ জনের বেশি উল্লেখ করা হলেও প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ৮৩৫ জনের নাম।

