বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণা, বাণিজ্য আইন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির একটি শক্তিশালী জাতীয় থিংক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিএফটিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের কোনো ঘাটতি নেই। এতদিন মূল চ্যালেঞ্জ ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্যনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত ও গভীর গবেষণার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএফটিআইকে আরও কার্যকর ও গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।
তিনি জানান, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর বাজার পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা পরিচালনা করবে বিএফটিআই। এসব গবেষণার ফলাফল সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের জন্য বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন এবং অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি বাণিজ্য আইন বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দক্ষ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বিএফটিআইয়ের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ড. মোস্তফা আবীদ খানের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ সময় জানানো হয়, দেশের বাণিজ্যনীতি উন্নয়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের অধীনে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে অ্যান্টি-এক্সপোর্ট বায়াসের প্রভাব, অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং চামড়া খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের জন্য দেশের এয়ার টিকিটিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নিয়েও গবেষণা চলছে। পাশাপাশি বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা, আরজেএসসি নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল, কর, ভ্যাট, কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, বিএফটিআই ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বিষয়ে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএনডিপি, সানেম এবং ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

