প্লট বরাদ্দের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়া, কিন্তু প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী, পরিচালক মো. মোমেনসহ সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব গ্রাহককে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং তাদের জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। সিআইডি জানায়, এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তিতে টাকা সংগ্রহ করা হয়। অনেক গ্রাহককে প্লটের নিশ্চয়তা হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত জমি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিআইডির দাবি, গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। অনুসন্ধানে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ৮২টি ব্যাংক হিসাব যাচাই করে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এছাড়া একই সময়ে মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দলিল গ্রাহকদের কাছে জমির নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সিআইডির কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, মামলার তদন্তে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের ধরন এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতারণার শিকার আরও গ্রাহকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজও চলছে।
এদিকে আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।

