চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একের পর এক জলদস্যুতার ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। গত এক মাসে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটায় বন্দর এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদারের জন্য সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
বুধবার নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বহির্নোঙর এলাকায় উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহল বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চিঠিতে বলা হয়, বহির্নোঙরে নিরাপত্তা দুর্বল থাকলে তা শুধু জাহাজ চলাচলের জন্য নয়, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, জাতীয় অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
চেম্বারের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর বিমা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি জাহাজের কার্যক্রমে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে।
সবশেষ জলদস্যুতার ঘটনাটি ঘটে ১৬ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চার্লি বহির্নোঙর এলাকায়। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ জনের একটি দল, যারা পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে এসেছিল, তারা সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে উঠে পড়ে।
জাহাজটি ১৫ জুলাই রাতে হংকং থেকে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরে সেটির সীতাকুণ্ডের একটি জাহাজ ভাঙা শিল্প এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল।
জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, হামলাকারীরা জাহাজে উঠে দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল জাহাজের নাবিকদের ব্যস্ত রাখে, আর অন্য দল ডেকে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, জাহাজের অধিনায়ক সঙ্গে সঙ্গে বন্দর নিয়ন্ত্রণকক্ষকে বিষয়টি জানালেও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এখনও পর্যন্ত জাহাজের অধিনায়ক চুরি হওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেননি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। তাই বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষার জন্য নয়, দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা না করলে ভবিষ্যতে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

